সম্প্রতি ঢাকার ‘টঙ্গী টিএনটি বাজার জামে মসজিদে’র সম্মানিত আলেম ও খতীব, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজিকে হিন্দু ধর্মীয় উগ্র সংগঠন ই-স-কন কর্তৃক অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য এক চরম হুমকি। এ ঘটনা দেশের মুসলিম জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে এবং স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, ই-স-কন একটি ধর্মীয় সহিংস ও উগ্রবাদি স-ন্ত্রা-সী সংগঠন। বাংলাদেশের সর্বভৌমত্ব, মুসলিম বোনের মর্যাদা ও আলেম-ইমাম সমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক তাদের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ জুলুমের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের খতীব মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর ২০২৫ ঈ.) বাদ মাগরিব, যশোর দারুল কুরআন মাদরাসার উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, উগ্রবাদী সংগঠন ই-স-ক-নের ষড়যন্ত্রের একটি হলো ‘ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ’ এ সম্পর্কে তরুণদের সতর্ক করে বক্তৃতা দেওয়ায় ঢাকার ‘টঙ্গী টিএনটি বাজার জামে মসজিদে’র সম্মানিত খতীবকে রহস্যজনকভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আলেম সমাজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সুতরাং আমাদের দাবি হলো:
অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িত সকল ই-সকন সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টকারী ও সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
দেশের সকল ধর্মীয় নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনাটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
একই সঙ্গে আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানাই— দেশে বিভেদ সৃষ্টিকারী যেকোনো গোষ্ঠী, সংগঠন ও ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর হাতে দমন করুন। আমরা শান্তি, ন্যায় ও ইসলামী আদর্শের পথে ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাই আমাদের অঙ্গীকার।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি — যাতে ধর্মীয় উসকানি ও সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং বাংলাদেশে শান্তি ও ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়।
মারকাযুল উলূম খুলনার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মুফতী গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রেল স্টেশন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল করীম যশোরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর দারুল আরকাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মান্নান, যশোর দড়াটানা মাদরাসার মুফতী মুজিবুর রহমান, দড়াটানা মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা হামিদুল ইসলাম, যশোর বারান্দিপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতীব মুফতী সফিউল্লাহ হাবিবী প্রমুখ।
