এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল ও বার্সেলোনার ভাগ্য নির্ধারণ করবে ‘তিন লড়াই’

by naymurbd1999@gmail.com

এল ক্লাসিকোর শেষ চার লড়াইয়ে বার্সেলোনার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। হজম করেছে ১৬ গোল। এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। রাফিনিয়া-রবের্ত লেভানদোভস্কিরা চোটে, বার্সেলোনা ডাগআউটে পাচ্ছে না কোচ হ্যান্সি ফ্লিককেও। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মাঠে নামার আগেই যেন কিছুটা এগিয়ে স্বাগতিক রিয়াল!

এটাও অবশ্য ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই- একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই নিজেদের সবশেষ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগে অলিম্পিয়াকোসের জালে ৬ বার বল পাঠায় বার্সেলোনা। তবে সামনে যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি রিয়াল মাদ্রিদ, অতিথিদের জন্য তখন খেলাটা মনস্তাত্বিক ও মাঠে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন
banner

লা লিগায় ৯ ম্যাচে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের অর্জন ২৪ পয়েন্ট। সমানসংখ্যক ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে বার্সেলোনা। এল ক্লাসিকো দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে সব মিলিয়ে বার্সেলোনাকে কাগজে-কলমে দুর্বল দল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে অনেক সময় এই চাপহীন অবস্থাই খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করে তুলতে পারে। বড় ম্যাচে ছোট ছোট লড়াইগুলোই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচে ভাগ্য। সেদিক থেকে এল ক্লাসিকোয় লড়াইয়ের মধ্যে আছে ‘তিন বিশেষ লড়াই’- যা ক্লাসিকোর ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।

 

লামিন ইয়ামাল বনাম আলভারো কারেরাস

গ্রীষ্মে যুক্ত হওয়া রিয়াল মাদ্রিদের আলভারো কারেরাসের জন্য এটি প্রথম এল ক্লাসিকো, কিন্তু তাঁর প্রতিপক্ষ লামিন ইয়ামাল একেবারে অপরিচিত নন। এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা—এটি চতুর্থবার।

প্রথম দেখা হয়েছিল দুই বছর আগে, যখন কারেরাস খেলছিলেন গ্রানাডায় ধারে। সেই ম্যাচেই ইয়ামাল করেছিলেন নিজের প্রথম লা লিগা গোল। গত মৌসুমে দুবার দেখা হয় তাঁদের, যখন কারেরাস খেলতেন বেনফিকার হয়ে। প্রথম সাক্ষাতে, বার্সেলোনার স্মরণীয় ৫–৪ গোলের জয়ে, গোল বা অ্যাসিস্ট না করলেও ইয়ামাল ছিলেন আক্রমণের প্রাণ। দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হন চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে, যেখানে বার্সা ১–০ গোলে জেতে। ইয়ামাল সেই ম্যাচে ১০০ শতাংশ ড্রিবল সাফল্য অর্জন করেছিলেন।

এই ইতিহাসই বলে দেয়— রিয়াল ডিফেন্স ভাঙতে ইয়ামালের গতি ও কৌশল হবে বার্সার বড় অস্ত্র, আর কারেরাসের কাজ হবে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

 

ফেরান তোরেস বনাম থিবো কর্তোয়া

চোট কাটিয়ে ফেরান তোরেসের ফেরাটা বার্সেলোনার জন্য স্বস্তির। সম্ভবত তিনিই থাকবেন মূল স্ট্রাইকার হিসেবে। কিন্তু সামনে আছেন ইউরোপের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক—থিবো কর্তোয়া।

গত কয়েক ম্যাচে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বেলজিয়ান এই কিপার। হেতাফের বিপক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ এক-অন-ওয়ান সেভে দলকে রক্ষা করেছেন, আর জুভেন্টাসের বিপক্ষে দুশান ভ্লাহোভিচকে শূন্য হাতে ফেরান।

আতলেতিকোর বিপক্ষে বড় হারের পর থেকে রিয়াল মাদ্রিদ টানা চার ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ফেরানের জন্য কাজটা সহজ নয়- কর্তোয়াকে পরাস্ত করা। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং ও পজিশন সেন্সই পারে কর্তোয়ার দেয়াল ভেদ করতে। এই লড়াইয়ের ফলাফলই হয়তো নির্ধারণ করবে এল ক্লাসিকোর স্কোরলাইন।

 

পাউ কুবারসি বনাম কিলিয়ান এমবাপে।

বার্সেলোনার তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির জন্য এটি এক বড় পরীক্ষা। তাঁর প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র কিলিয়ান এমবাপে। এই মৌসুমে ইতিমধ্যে লা লিগায় ১০ গোল করেছেন ফরাসি তারকা, যার কল্যাণে টেবিলের শীর্ষে রিয়াল। কিন্তু এমবাপের বিপক্ষে কুবারসির রেকর্ড বেশ আশাব্যঞ্জক।

এ পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছেন দুজন, এর মধ্যে পাঁচবারই জয়ী হয়েছেন কুবারসি। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৭.২ ক্লিয়ারেন্স এবং এমবাপের বিপক্ষে ২.৫০ পয়েন্টের সাফল্যই প্রমাণ করে—বড় তারকার বিপক্ষেও শান্ত ও কার্যকর থাকেন তিনি। বার্সার জন্য এমবাপেকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি।

রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা— দুই নামই ফুটবলের আবেগের প্রতীক। কিন্তু এবারের এল ক্লাসিকো শুধু মর্যাদার নয়, অনেক দিক থেকেই ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। ইয়ামালের কৌশল-দক্ষতা, তোরেসের ফিনিশিং, আর কুবারসির দৃঢ় রক্ষণ—এই তিন লড়াইয়ে লুকিয়ে আছে ম্যাচের ভাগ্যরেখা। রিয়ালের শক্তি যতই বেশি হোক, ইতিহাস বলে—এল ক্লাসিকোতে ভবিষ্যৎ কখনো আগেভাগে লেখা যায় না।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222