ডেস্ক রিপোর্ট:
সন্দ্বীপ উপজেলার আমানউল্ল্যাহ, কালাপানিয়া, সন্তোষপুর, গাছুয়া, হারামিয়া, মুছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে দিনে চুরি ও রাতে চেতনানাশক স্প্রের আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সন্দ্বীপের মানুষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুমের মধ্যে জানালা দিয়ে বা বাসায় ঢুকে রুমে স্প্রে মেরে অচেতন করে মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। গত ৭ দিনে ৯ বাড়িতে চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন পার করছেন পুরো সন্দ্বীপের মানুষ।
আলমগীর মেম্বার, তিনি আমানউল্যাহ ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি ও স্থানীয় আকবর হাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। কিছুদিন ধরে নিজ ইউনিয়নে রাতের বেলায় বাসায় ঢুকে স্প্রে করে চুরির ঘটনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। কিন্তু পরের দিনই তার নিজ ঘরে স্প্রে করে স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। অথচ পরিবারের কোনও সদস্যই টের পায়নি।
গত রোববার (৩০ নভেম্বর) উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ড সংলগ্ন বাড়িতেও বেলা ১১টায় হায়াৎ হাসান নামে এক ভুক্তভোগীর বাড়িতে বোরকা পরিহিত এক নারী সীমানার টিন খুলে একা বাড়িতে প্রবেশ করে ২ ভরি স্বর্ণ আলমিরা ভেঙে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর স্বামীর ভাষ্যমতে, তিনি ব্যবসার কাজে বাসা থেকে বের হয়ে গেলে, তার স্ত্রী ও কন্যা শিশু ছাড়া কেউ ছিল না। বাড়ির মেইন গেটের পাশের টিন খুলে ঘরের দরজার পাশে ওৎ পেতে থাকে, এক পর্যায়ে তার স্ত্রীকে কোনো কিছু বুঝার আগেই চেতনানাশক স্প্রে করে অচেতন করে বাসায় প্রবেশ করে আলমিরা ভেঙে ২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রশাসনের পাশাপাশি চোরদের ধরতে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। কিন্তু এ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়ছে দিন দিন। এদিকে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি বিএনপি’র যুবদল, ছাত্র শিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি, ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরাও রাতের বেলায় বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টহল জোরদার করছেন।
সন্দ্বীপের সচেতন নাগরিকদের মতে, চেতনানাশক স্প্রের মাধ্যমে চুরির ঘটনা আগে ঘটেনি। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, “আমরা শুধু চুরি যাওয়া জিনিস ফেরত চাই না, আমরা নিরাপদে থাকতে চাই। এখন রাতেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় সম্প্রতি বিভিন্ন বাড়িতে চুরি, ঢুকতে চেষ্টা ও সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাফেরার ঘটনা বেড়েছে। অপরাধীরা ধরা না পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত পুলিশি টহল বাড়ানো এবং চক্রটিকে শনাক্ত করার দাবি তুলেছেন।
তারা আরো অভিযোগ করেন, চুরির ঘটনার পর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার নেয়। পরিবারের দাবি- রাতের বেলা কে বা কারা ঘরের বাইরে থেকে চেতনানাশক স্প্রে ছড়িয়ে দেয়। এতে তারা শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করেন এবং আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে সন্দ্বীপ জুড়ে চরম উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সন্দ্বীপ থানার অপিসার ইনচার্জ বলেন, “অনেকগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছি, জড়িতদের আটকের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘটনাগুলো গুরুতর হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।”
এমএআর/
