নাজমুল হুদা মজনু >>>
বাকবাকুম পায়রা ছিল
পালক ঝরা খোপটা
ডাহুক ডাকে মুখর হতো
পুকুর পাড়ের ঝোপটা।
দুপুর বেলা রোদের ঝিলিক
চিক চিক মাছগুলো
দাঁড়িয়ে থেকে দেখতো খেলা
কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো।
উঠোন কোণে ফুলের শোভা
গোলাপ গাঁদা গন্ধরাজ
কোমল হাতে মালা গেঁথে
সাজতো নীলা বধূর সাজ।
আমের শাখে উঠতো ডেকে
বউ কথা কও পাখিটা
লজ্জা পেয়ে কিশোরী মনে
কাঁপতো তখন আঁখিটা।
শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেবো
বলতো দাদী বুড়িটা
সেই রাগেতে নীলা মণি
ছিঁড়তো পাতা কুড়িটা।
দু’দিন পরে বিয়ের লগন
সামনে এসে দাঁড়ালো
হাসি কান্নার পর্ব শেষে
ভিনগাঁয়ে পা বাড়ালো।
মায়ামাখা মুখের হাসি
লাল টুকটুক ঠোঁটজোড়া
তার পরেও বরটি বিরাগ
পায়নি টাকা একতোড়া।
দানব সে তো মানুষ নয়
তাড়িয়ে দিলো নীলাকে
ফিরলো নীলা করুণ বেশে
মানলো না এই লীলাকে।
হিজল গাছের ডালের সাথে
পরলো গলায় ফাঁসটা
নীলা মণি রইলো না আর
রইলো পড়ে লাশটা।
দু’দিন পরে পেলাম যখন
নীল কষ্টের খবরটা
নীলা নেই আছে শুধু
বকুলতলায় কবরটা।
যৌতুকলোভী নরপশুদের
কঠোরভাবে রুখতে
ইসলামের প্রাঙ্গণে
হবে আজ ঝুঁকতে।
এমএআর/
