দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ মরজাল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

by Fatih Work

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় অবস্থিত মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পুরোনো ভবন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ায় তা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ২০২৪ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। তবে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার প্রায় ২ বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি কেন্দ্রটির সেবামূলক কার্যক্রম। ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।

বিজ্ঞাপন
banner

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়ার বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে কেন্দ্রটিতে কার্যত সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তার বদলির কারণে স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি আরও প্রকটভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশা ছিল, নতুন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হলে নাগরিক সেবায় মুখরিত হয়ে উঠবে এলাকাটি। কিন্তু কেন্দ্রটি দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

প্রায় ২ বছরেও কেন্দ্রটিতে সেবার কার্যক্রম শুরু হয়নি। নেই নিয়োগপ্রাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসক, নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা। এমনকি নিম্নপদস্থ কর্মচারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনের নিয়োগ নিয়েও স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একাধিকবার জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী দ্রুত কেন্দ্রটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা ডলি রাণী বিশ্বাস জানান, “কেউ সেবা নিতে আসেন না, কারণ এখানে কোনো ওষুধ নেই। আমরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত হাসপাতালের আঙিনায় অবসর সময় কাটাই, আমাদের তেমন কোনো কাজ নেই।”

নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুন বলেন, “জনবল নিয়োগ না থাকার কারণে এখনো মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে কার্যক্রম শুরু হয়নি। তাই আমিও অবসর সময় আড্ডায় কাটাই।”

সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা যায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিনের দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে প্রতিদিনের উপস্থিতির হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিকুনা আক্তার মুঠোফোনে জানান, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা মেডিকেল কর্মকর্তা আসাদুল্লাহ আল গালিব ভালো বলতে পারবেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে রায়পুরা উপজেলা মেডিকেল কর্মকর্তা (এমসিএইচ-এইচএফসি) আসাদুল্লাহ আল গালিব মুঠোফোনে জানান, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন তার অধিভুক্ত নন, তিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার আওতাধীন। এছাড়া তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের কারণে এখনো মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে সেবার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুত কেন্দ্রটির সেবাকার্যক্রম চালু করা যায়।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222