এমরান হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ বিবেচনা করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সাতটি উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬২৩টি। এর মধ্যে ১২২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২১২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৮৯টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ও ঝুঁকির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে জামালপুর সদর-৫ আসন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৬১টি, যার মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের দাবি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও দলটির নেতা-কর্মীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও রয়েছে।
জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জামালপুর-৫ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একসময় গুপ্ত রাজনীতি করেছে-এ কথা আমরা সবসময় বলে থাকি। তাদের যদি কোনো গুপ্ত পরিকল্পনা থাকে, সেক্ষেত্রে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকা অস্বাভাবিক নয়।”
অন্যদিকে জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে তাদের পরাজয় নিশ্চিত—এটা তারা নিজেরাই উপলব্ধি করতে পারছে। কাজেই পরাজয়ের এই গ্লানি সহ্য করার মতো ধৈর্য ও শক্তি তাদের নেই। এ কারণেই অতীতে যারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় একই কাজ করেছে, তাদের বন্ধুসুলভ সংগঠনও সেই একই পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।”
জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবার একটি বিষয় খুব স্পষ্ট—অস্ত্রবাজি ও কেন্দ্র দখলের চিন্তা ভুলে যেতে হবে। কেউ যদি এমন চিন্তা করে, সেটি তার ভুল ভাবনা ও দূরস্বপ্ন। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।”
জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ আলী বলেন, “ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে জামালপুরে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করি।”
জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এসব প্রার্থীকে ভোট দেবেন ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার।
এমএআর/
