এমরান হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন সংক্রান্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জামালপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে ফোর্স মোতায়েন সংক্রান্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক।
ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহেল মাহমুদ পিপিএম অফিসার ও ফোর্সের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, “আমরা ইতিহাসের অংশ হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছি। বিগত কিছু নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে যে ঘাটতি ছিল, ইনশাআল্লাহ এবার দেশবাসীকে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়ে আমরা বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসের অংশ হতে পারব।”
পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সকল অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আমরা পেয়েছি।”
তিনি অফিসার ও ফোর্সের উদ্দেশ্যে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইনচার্জ হিসেবে পুলিশের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন্দ্রের মূল দায়িত্ব ও নেতৃত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “নির্বাচনকালীন দায়িত্ব অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য। তবে এই পরিশ্রমের মাঝেও ফোর্সের জন্য সর্বোচ্চ কমফোর্ট নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।” যে কোনো পরিস্থিতিতে সকল সদস্যকে সুস্থ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, আচরণ ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ইউনিফর্ম পরিধান, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও বডি ওর্ন ক্যামেরা বেল্টের সঙ্গে সার্বক্ষণিক বহন নিশ্চিত করতে হবে। অস্ত্র যথাযথভাবে প্রদর্শন করতে হবে এবং কেন্দ্রে যাওয়ার পূর্বে অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো অবস্থাতেই আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে আনসার, সেনাবাহিনী, পুলিশের মোবাইল টিম ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে এবং সকল বাহিনীর মধ্যে পর্যাপ্ত সমন্বয় বিদ্যমান থাকবে।”
ফোর্সের ওয়েলফেয়ার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, থানা থেকে সিসি নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় সকল সদস্যের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে কোনো ধরনের সুবিধা বা কিছু গ্রহণ করা যাবে না।
তিনি সকলকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসীকে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যদি কোনো প্রকার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি বা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চালায়, সে ক্ষেত্রে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোরশেদা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম পিপিএম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান (ইসলামপুর সার্কেল), সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা (মাদারগঞ্জ সার্কেল), সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
এমএআর/
