বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার পর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির অ্যানেক্স ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। পরে বিকেলে তাকে কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর আদালতের পিপি নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসীন মন্টু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাঈদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দীন আহম্মেদ বাবলু, অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ঈমন এবং অ্যাডভোকেট বশির উদ্দীন সবুজ।
এদিকে আদালত চত্বরে প্রবেশ করে নির্বাচিত সভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তারা অবিলম্বে সাদিকুর রহমান লিংকনের মুক্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন।
আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর্জা মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন বলেন, আদালতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একজন সাধারণ নাগরিককে গ্রেপ্তারের বিধান নেই। অথচ যৌথ বাহিনী আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে, যা আইনের পরিপন্থী। এ সময় তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জহির উদ্দীন এবং অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম শরিয়তউল্লাহর অপসারণ দাবি করেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, অবিলম্বে সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি তারা কোনো মামলার শুনানিতে অংশ নেবেন না বলেও জানান।
বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট বিচারক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন এবং টাকার বিনিময়ে জামিন দিচ্ছেন। সভাপতিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন আইনজীবীরা।
এমএআর/
