দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে বড় পুরস্কার পেলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
রোববার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এতদিন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এই দায়িত্ব পালন করে আসলেও এখন থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতেই ন্যস্ত হলো জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের ভার।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বারবার কারাভোগ ও অমানবিক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে তিনি অন্যতম শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দল থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সেই সময় অনেক মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহী ভূমিকা নিলেও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল দলীয় সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেন এবং ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে দিনরাত মাঠে কাজ করেন। তার এই ত্যাগ ও শৃঙ্খলার বিষয়টি দলের হাইকমান্ডের নজরে ছিল।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিযুক্ত এই প্রশাসক জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তে কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, একজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকে এই পদে আসীন করার ফলে জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর হবে। বিশেষ করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা একে দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াইয়ের মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি সারাজীবন দলের নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থেকেছি। দল ও সরকার আমার ওপর যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, আমি কিশোরগঞ্জবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব।’ তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
টিএইচএ/
