এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের সুযোগ নিয়ে জামালপুরে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় ৩ হাজার ৫৩ লিটার পেট্রোলসহ ১১ জনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরে সদর উপজেলার কেন্দুয়া কালিবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বিকেলে অভিযুক্তদের জামালপুর সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার হাকিম মিয়া (৪০), হামিদুর রহমান (৫২), মো. মারুফ হোসেন (২৪), সদর উপজেলার হাফিজুর রহমান (৪০), মাদারগঞ্জ উপজেলার মো. শাহ জামাল (৫০), আলতাফুর রহমান (৪৮), সরিষাবাড়ী উপজেলার মো. জগলু মিয়া (৪৪), মো. জহুরুল ইসলাম (৪৫), মো. সবুজ মিয়া (৪০) এবং বগুড়া জেলার ফুল মিয়া (৩৮) ও মনির হোসেন (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে জামালপুরের পাম্পগুলোতে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ১০০-২০০ টাকার বেশি তেল না পেলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই তেল চলে যাচ্ছে কালোবাজারিদের দখলে। খোলা বাজারে সরকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি দামে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি চক্র কেন্দুয়া কালিবাড়ি বাজারে ড্রামে করে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল বিক্রির চেষ্টা করছে; এমন খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে হানা দেয়। বুধবার ভোরে অটোরিকশা, ভ্যান ও মিনি পিকআপে পরিবহনের সময় ১৫টি ড্রামে ভরা ৩ হাজার ৫৩ লিটার পেট্রোলসহ হাতেনাতে ১১ জনকে আটক করে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয় জনতার হাতে তেল জব্দ ও ১১ জন আটকের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিকেলে আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খোলা বাজারে অধিক মূল্যে বিক্রির জন্য এই জ্বালানি তেল পাচার করা হচ্ছিল। তবে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তেলগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
টিএইচএ/
