একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানীর নিখোঁজ ও মৃত্যু, নেপথ্যে কী

by hsnalmahmud@gmail.com

যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এবং উচ্চমাত্রার গোপন তথ্যের অ্যাক্সেস থাকা বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এবার সরাসরি মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ট্রাম্প বলেছেন—শিগগিরই এসব ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
banner

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন বিজ্ঞানী মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই মহাকাশ প্রযুক্তি, পারমাণবিক গবেষণা কিংবা উচ্চ নিরাপত্তা-সম্পর্কিত প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। কয়েকটি ঘটনা সন্দেহজনক ও অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নাকি কাকতালীয়—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করি এটি কাকতালীয়। তবে আমরা আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই জানতে পারব। আমি এই বিষয়েই একটি বৈঠক থেকে এলাম।”

বিষয়টিকে গুরুতর উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহত বা নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি জানান, প্রশাসন দ্রুতই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি “ভালো উত্তর” পাওয়া যেতে পারে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেই মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি ও ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ঘটনাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সংগঠিত সংযোগ থাকার প্রমাণ এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, তিনি এখনও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেননি। তবে দ্রুতই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তথ্য জানানো হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, যদি ঘটনাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি এমন একটি বিষয় যা সরকার অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, প্রতিটি ঘটনাই রহস্যজনক এবং আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে এগুলো কোনো বড় ধরনের সমন্বিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ দেয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না।

তার মতে, ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে হয় না, কারণ প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্র আলাদা। তাই একে সমন্বিত কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসব বিজ্ঞানীরা যুক্ত ছিলেন—যেমন লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টার—এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন, উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে।

ফলে এসব উচ্চ-নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি গুপ্তচরবৃত্তি, নিরাপত্তা ভঙ্গ বা অন্য কোনো হুমকির সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিখোঁজ অনেক বিজ্ঞানী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও চাবির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাসায় রেখে গেছেন। পাশাপাশি কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানীর আকস্মিক মৃত্যু কিংবা সহিংস পরিস্থিতিতে মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যাদের কাছে সংবেদনশীল বা গোপন তথ্য রয়েছে, তারা ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার বলেছেন, গুপ্তচরবৃত্তি কিংবা টার্গেট করে অপহরণের আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222