যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হুমকির মুখে তারা কোনো সংলাপে বসবে না।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে এই কূটনৈতিক সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “হুমকির মুখে আমরা কোনো আলোচনা গ্রহণ করব না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ‘নতুন তুরুপের তাস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু আক্রমণাত্মক বার্তার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, আগামী বুধবার (২২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান অস্ত্রবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানের জ্বালানি খাত ও বেসামরিক অবকাঠামোতে সরাসরি হামলার নির্দেশ দেবেন।
কূটনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের রানিং মেট ও হবু ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য পাকিস্তানের ইসলামিয়াবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তির’ খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, চুক্তি না হলে ট্রাম্পের হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে এবং তিনি যা বলেন তা করতে দ্বিধা করেন না। বিপরীতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন উস্কানি এবং ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বড় বাধা। তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে, এখন পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পাঠানো হয়নি এবং আলোচনার কোনো দিনক্ষণও চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বুমবার্গের কাছে দেওয়া এক মন্তব্যে অস্ত্রবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, দাবি মানা না হলে “অনেক বোমার বিস্ফোরণ ঘটবে”। একইসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, গত বছরের মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখন সেখান থেকে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন করা একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
