অদ্ভূত ‘জলাতঙ্কবাদি’ বক্তা!

by Fatih Work

মাননীয় বক্তা, একবার কি আপনি ভেবেছেন, আমার প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানায় দ্বীধাহীন চিত্তে কে শুয়ে পড়েছিলেন? বাইরে হইহুল্লুর আর চেঁচামেচি। খুনপিয়াসি মানুষের তাণ্ডবলীলার মাঝখানেই নবীজিকে রক্ষার নজরানা দিয়েছিলেন হযরত আলী রা.।

বয়ান ও বক্তৃতার এ সুপথ কতই না উত্তম। আমার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমল মসৃণ করে তুলেছিলেন। একবার তার কথা কেউ শুনলে তিনি  সমাজের আয়না হয়ে উঠতেন।

বিজ্ঞাপন
banner

মাননীয় বক্তা, একবার ভেবেছেন? হযরত আলী রা. মাত্র আট বছর বয়সে ইসলামের সুশীতল ছায়া গ্রহণ করেছিলেন। আজকের দ্বীন প্রচারক কথিত মোবাল্লগ আপনি। কোনো পার্থক্যটা খুঁজে পান? রাতের কোনো অংশের বয়ান কি আপনি দ্বীনপ্রচারের উদ্দেশে করেন?

বিনা পয়সায় করেন?

মাননীয় বক্তা, যুদ্ধের ময়দানে হযরত আলীর রা. দশ সেকেন্ডের আমলের সমান হবে আপনার সারা জীবনের আমলের সঞ্চয়? হযরত আলীর ঘোড়ার খুড়ের ধুলোর সমানও হবে না।

মাননীয় বক্তা, খায়বার বিজয়ে যে অবদান রেখেছিলেন হযরত আলী রা.। তা কি একবারও মনে পড়ে? অনন্য বরকতের ধারায় সুশোভিত ছিলেন তিনি। অসুস্থ অথচ তাকে নিয়ে  বিজয়ের ছক তৈরি করেছিলেন নবীজি। হযরত আলী যখন ময়দানে তখন সাহাবায়ে কেরাম আরো তীব্র করে তুললো আক্রমণ। পরে তার হাত ধরেই খায়বারে বিজয় আসে।

খায়বারের দুর্ভেদ্য দুর্গ জয় এবং এর বিশাল দরজা নিজ হাতে উপড়ে ফেলার ঘটনায় ইসলামের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছেন তিনি।

বদর, ওহুদ, খন্দক ও খায়বারসহ প্রায় সব যুদ্ধে তিনি অনন্য সাহসিকতা দেখান এবং যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

যুদ্ধের মাঠে তাঁর ব্যবহৃত দুই ধার বিশিষ্ট তলোয়ার ‘জুলফিকার’ ব্যবহার করতেন।

রাসূল সা. তাকে জ্ঞানের শহর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

হযরত আলী জটিল বিচারিক সমস্যার সমাধান দিতে পারতেন।  প্রথম সময়ে খেলাফতের প্রাশাসনিক দায়িত্ব থেকে দূরে থাকলেও গভর্নর কেন্দ্রীক জটিল সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন।

৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের চতুর্থ খলিফা নির্বাচিত হয়ে তিনি রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন।

মাননীয় বক্তা, আপনার ব্যাঙ্গাত্মক ঔদ্ধত্য চোখে ভাসে। আপনি কতটা নির্দয় আচরণ করেছেন, কতটা নির্বোধের পরিচয় দিয়েছেন? তাকি ভেবেছেন?

আপনি ভেবেছেন? ক্ষমা চাইলেই শেষ? না। কিছু বিয়াদবি সীমা অতিক্রম করে। ক্ষমার অবস্থানও বদলায়। আল্লাহ ভালো জানেন।

আজীবন ওয়াজ নসিহতের বাজারে সময় এতটুকুন ইনসাফ করবার মতো রহম হয়নি বক্তার। কী আশ্চর্য!  ভিন্ন মতাবলম্বী নয়, বিধর্মী নয়, নাস্তিক নয়-আমাদের মোবাল্লিগ! তার গায়ে গতরে  নাস্তিক্যবাদি বডিল্যাঙ্গুয়েজ!  কী বিষাদময় যন্ত্রণা!

ওয়াজের ময়দানকে কেউ করেছে যাত্রাপালা গানের মতো, কেউ বানিয়েছে পয়সা বানানোর হাতিয়ার, কেউ ওয়াজের প্যান্ডেলে যেনো একজন ড্যানসার, কেউ করছে বাজারে ওষুধ বিক্রেতার মতো অঙ্গভঙ্গি।

আদতে আমরা কেমন বয়ান চাই? কেমন কথার জাদু আশা করি? আল্লাহর রাসূল সা. বলেন,

إنَّ مِنَ البَيانِ لَسِحْرًا

ইন্না মিনাল বায়ানি লাসিহরা”। (বুখারি)

“নিশ্চয়ই কোনো কোনো বয়ান বা সুন্দর উপস্থাপনায় জাদু (এর মতো প্রভাব) থাকে।”

আমরা এ জাতীয় বক্তাদের এমন উদ্ভট আচরণকো কী হিসাবে আখ্যা দিতে পারি? এটা কি লাসিরার পর্যায়ে পড়ে? কখনোই নয়।

এ দেশে অনেক নামে জিহাদি আছে, কাজে টনটন? দশবার উঠবস করবার ক্ষমতা নেই অথচ তিনি কমান্ডার। জীবনে দেওবন্দ যায়নি অথচ তিনি “কাসেমী’। পাস করেনি এসএসসি অথচ ডাক্তার। এরাতো নিজেরাই রোগী, অন্যের চিকিৎসা কীভাবে করবে?

শানে সাহাবা ভুললে চলবে না। আজিমতে সাহাবা বাদ দিয়ে ইসলাম হবে না। আপনি কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন নিজেই বের করে নিন। অত্যন্ত সহজ। আল্লাহ তআলা আমাদের সাহাবা আদর্শের জীবন গঠনের তাওফিক দিন

 

মতামত: মাসউদুল কাদির

আলেম, সাংবাদিক,লেখক

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222