রাজধানীর যাত্রাবাড়ীস্থ তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের দাখিল (প্রাইভেট) পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র বিতরণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, নির্ধারিত ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরিবর্তে তাদের হাতে পুরনো বা অনিয়মিত সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শতাধিক পরীক্ষার্থী চরম বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন, যা তাদের শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধীনে নির্ধারিত ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার হলে সম্পূর্ণ ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেখে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। সাইফুল ইসলাম নামে এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শর্ট সিলেবাসের জন্য প্রস্তুতি নিলেও হলে দেওয়া হয়েছে অন্য বছরের প্রশ্ন। কী লিখবেন তা বুঝতে না পারায় তার পুরো পরীক্ষা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী আবু বকর আদনান অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি, বরং ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বছরের পর বছর পরিশ্রম ও সাধনা এমন অব্যবস্থাপনার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মিনারুল ইসলাম মুন্না নামের এক শিক্ষার্থী জানান, সংকটের সমাধান চেয়ে তারা ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এবং তা’মীরুল মিল্লাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সদুত্তর পাননি। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এমন গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য এবং এর ফলে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, একই দিনে নারায়ণগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রেও প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অতিরিক্ত সময় প্রদান ও তদন্তের নির্দেশ দিলেও যাত্রাবাড়ী কেন্দ্রে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
টিএইচএ/
