রংপুরে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিশ্বখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার প্রধান অর্থকরী এই ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশ ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাগান মালিক ও চাষিরা। গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিলের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার মিঠাপুকুর ও পদাগঞ্জসহ প্রধান আম উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে গাছ থেকে ঝরে পড়েছে কয়েক টন অপরিপক্ব আম। আমগুলোতে কেবল আঁটি আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, ঠিক এই মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ গুটি ঝরে পড়ায় ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে সরেজমিনে জানা গেছে।
রংপুর আঞ্চলিক খামার বাড়ির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই মৌসুম থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে সেই লক্ষ্যমাত্রা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের নিচে পড়ে আছে হাজার হাজার ঝরে পড়া আম। এছাড়া শিলাবৃষ্টির কারণে গাছে থাকা আমগুলোতে ফাটল, দাগ ও ফুটো তৈরি হয়েছে, যা পচন ধরার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ঝড়ের ঝাপটায় বড় বড় গাছের ডাল ভেঙে আমের বাগানগুলো লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
স্থানীয় আম চাষি মিন্টু মিয়া তার দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে বলেন, তার এক একর বাগানে প্রায় ২৫০টি হাঁড়িভাঙ্গা আম গাছ রয়েছে। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় তিনি প্রায় ৪০০ মণ আমের ফলন আশা করেছিলেন। কিন্তু কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তার বাগানের প্রায় ১০০ মণ আম অকালেই ঝরে গেছে। তিনি আরও জানান, আমের ভেতরে আঁটি শক্ত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ায় এগুলো এখন বিক্রিযোগ্য নয়। বাগানে প্রায় এক লাখ টাকার মতো বিনিয়োগ করে এখন লাভের বদলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিন পার করছেন তিনি। তার মতো এলাকার শত শত চাষি এখন তাদের বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কিত।
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাষিদের ধৈর্য ধরার ও পরিচর্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখীর কারণে প্রাকৃতিকভাবে কিছু আমের ‘থিনিং’ বা ঝরে যাওয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে গাছে টিকে থাকা বাকি আমগুলোর পুষ্টি পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং সেগুলোর আকার বড় হতে পারে। বাগান মালিকরা যদি সঠিক সময়ে ছত্রাকনাশক ও অন্যান্য পরিচর্যা অব্যাহত রাখেন, তবে মোট উৎপাদনের ওপর খুব বড় নেতিবাচক প্রভাব নাও পড়তে পারে। উল্লেখ্য, স্বাদ ও গন্ধে অনন্য হাঁড়িভাঙ্গা আম ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই সুস্বাদু আম আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত শুরু হয়।
টিএইচএ/
