রুয়েট প্রতিনিধি: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ক্যাম্পাস রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গোপনে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগামী ১০ দিনের মধ্যে গণভোট আয়োজনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ জমা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূত্রপাত হয় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদাত হোসেনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটি উপশাখার সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, তার এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রুয়েটের সঙ্গে নয়, বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিটের সঙ্গে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে গোপন রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল, তার সুষ্পষ্ট বাস্তবায়ন এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: ক্যাম্পাসে রাজনীতি চালুর উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অবিলম্বে স্থায়ী বহিষ্কার, রাজনীতি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের স্বপক্ষে প্রশাসনের সুদৃঢ় অবস্থান এবং ১০ দিনের মধ্যে গণভোটের আয়োজন। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মিরাত সাফিন তূর্য জানান, তারা প্রশাসনের কাছে পূর্বে উত্থাপিত দাবির অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন এবং নতুন প্রাপ্ত সকল প্রমাণাদি ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে হস্তান্তর করেছেন। প্রশাসন থেকে তাদের জানানো হয়েছে, গণভোটের নীতিমালা ও সময়সূচি নির্ধারণে দ্রুতই একটি শিক্ষক-সমন্বিত কমিটি গঠন করা হবে।
এ বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও প্রমাণাদি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
টিএইচএ/
