নিজস্ব প্রতিবেদন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা পর ফেরত দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ক্ষিরনাল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৩৬ এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। নিহতরা হলেন, ধজনগর গ্রামের হেবযু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৪২)।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা গুলি ছুড়লে মুরসালিন ও নবীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুইজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানিয়েছে, সীমান্তে বিএসএফের বাধার মুখে সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তারা ছররা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়।
৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলামের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় চোরাকারবারীদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে বিএসএফ সদস্যদের বাধার মুখে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএসএফ দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। এতে গুরুতর আহত দুইজনকে ভারতের বিশালঘর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এবং কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা। ভারতের পক্ষে বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার সিং ও বিশালঘর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি জানিয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক প্রটেস্ট নোট পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
টিএইচএ/
