কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে শেরপুরে ৩৩ মণের ‘বাংলার ডন’

by Masudul Kadir

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি খামারে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়। সাদা-কালো গায়ের রং, দীর্ঘ দেহ আর শান্ত স্বভাবের কারণে সহজেই আলাদা করে নজর কাড়ে সেটি। নাম তার ‘বাংলার ডন’।

গরুটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন প্রায় ৩৩ মণ ওজনের এই ষাঁড়কে।

বিজ্ঞাপন
banner

খামার কর্তৃপক্ষ বলছে, গরুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট, উচ্চতা ছয় ফুট দুই ইঞ্চি। প্রতিদিন খাবার হিসেবে লাগে প্রায় ৪০ কেজি ঘাস ও ১৫ কেজি খইলসহ নানা প্রকারের ভুসি।

নালিতাবাড়ীর আলিফ লাম অ্যাগ্রো খামারে তিন বছর ধরে বড় করা হচ্ছে ‘বাংলার ডন’কে। খামারের মালিক মাসুদ পারভেজ বলেন, ছোট অবস্থায় নকলা উপজেলা থেকে এক লাখ ছয় হাজার টাকায় গরুটি কেনা হয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় বিশেষ পরিচর্যা।

খামারে গিয়ে দেখা যায়, গরুটির জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা বড় শেড। কয়েকজন কর্মী সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় ব্যস্ত। দিনে দুই থেকে তিনবার গোসল করানো হয়। নির্দিষ্ট সময় মেনে দেওয়া হয় খাবার। পরিচ্ছন্নতার দিকেও রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর।

খামারের ব্যবস্থাপক মিরাজ হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবারের কারণেই গরুটি এত বড় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি এক হাজার টাকা ধরে গরুটির দাম ১৩ লাখ টাকার বেশি ধরা হচ্ছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরুটি দেখতে দর্শনার্থীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

খামারের শ্রমিকেরা জানান, বিশাল আকৃতির হলেও ‘বাংলার ডন’ স্বভাবে শান্ত। মাঝেমধ্যে অভিমান করলেও আদর পেলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যের মতো করেই গরুটির যত্ন নেওয়া হয়েছে। ছোট থেকেই খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরায় একটা নবাবি ভাব থাকায় গরুটির নামা রাখা হয়েছে ‘বাংলার ডন’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুটির ছবি দেখে খামারে এসেছিলেন সজীব মিয়া। তিনি বলেন, ‘ছবিতে বড় মনে হয়েছিল, কিন্তু সামনে এসে দেখি বাস্তবে আরও বড় ও আকর্ষণীয়। বাংলার ডন নামের স্বার্থকতা আছে।’

খামারের সার্বিক দায়িত্বে থাকা মনির হোসেন বলেন, নালিতাবাড়ীর আলিফ লাম অ্যাগ্রো খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ৭০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে বাংলার ডন। আলাদা যত্নে গরুটি বড় হয়েছে। খাওয়া ও চালচলনে একটু ব্যতিক্রমী ভাব থাকায় ডনকে দেখতে মানুষ আসেন। ইতিমধ্যে অনলাইনে ৬৬টি গরু ঢাকার বাজারে বিক্রি করা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222