খনি উত্তোলন নিয়ে তালেবান সরকারের নতুন নির্দেশনা

by hsnalmahmud@gmail.com

আফগানিস্তানের বদখশান প্রদেশে খনি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তালেবান সরকার। প্রদেশটির খনি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অবৈধ উত্তোলন বন্ধে জারি করা হয়েছে নতুন নির্দেশনা।

আফগানিস্তানের বদখশান প্রদেশের নবনিযুক্ত খনি বিষয়ক প্রধান আবদুল মতিন রহিমজি এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, এই প্রদেশে আর কাউকেই অবৈধ বা অননুমোদিতভাবে খনি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, খনি উত্তোলনে হস্তক্ষেপ করলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

তালেবানের এই কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার বদখশানের শাকি জেলার একটি মসজিদে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব বিভাজন অনুযায়ী খনি বিষয়ক যেকোনো বিষয়ে অন্য কোনো সংস্থার বা বাহিনীর হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই।

‘জনগণের রক্ত চুষে খাচ্ছে যারা, রেহাই নেই তাদের’

আবদুল মতিন রহিমজি স্বীকার করেছেন যে, বদখশানের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্বজ্ঞানহীন সশস্ত্র ব্যক্তিরা খনিগুলো ‘দখল’ করে রেখেছে। তবে এখন থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আর কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‌‘যারা অবৈধ খনি উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকবে, তাদের মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। যদি কেউ নিজের পদ, ক্ষমতা ও দায়িত্বের অপব্যবহার করে, তবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যারা জনগণের রক্ত চুষে খাচ্ছে, তাদের আর এক মিনিটও সময় দেওয়া হবে না এবং তারা নিজেদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে। এখন থেকে আর কাউকেই রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বাইতুল মাল) তছরুপ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

কেন এই আকস্মিক রদবদল?

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, খনি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বদখশানের স্থানীয় বাসিন্দা ও তালেবান বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তালেবান প্রশাসন ওই প্রদেশের সাবেক খনি প্রধান শফিকুল্লাহ হাফিজিকে বরখাস্ত করে। তার স্থলে কাবুল থেকে আবদুল মতিন রহিমজিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া খনি প্রধান শফিকুল্লাহ হাফিজি ছিলেন তালেবানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফসিহউদ্দিন ফিতরাতের ঘনিষ্ঠজন এবং তিনি ওই প্রদেশের ইয়াফতাল জেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে, নতুন প্রধান রহিমজি লোগার প্রদেশের বাসিন্দা এবং তালেবান কাঠামোর একজন প্রভাবশালী পশতুন বংশোদ্ভূত নেতা।

আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে বদখশানে খনি উত্তোলনের হার নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাজার হাজার মানুষ সেখানে অননুমোদিতভাবে খনি উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, এই লাভজনক খনি কার্যক্রমের একটি বড় অংশই তালেবান সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি এই অঞ্চলে কান্দাহারী (পশতুন) ও স্থানীয় বদখশানী তালেবান উপদলগুলোর মধ্যে স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পর্দার আড়ালে এক ‘গোপন যুদ্ধ’ ও অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। রহিমজির এই নতুন ও কঠোর নির্দেশনা মূলত সেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতেই জারি করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল

অনুবাদ: আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222