আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বাঘলান প্রদেশে এই প্রথম কোনো রাইস প্রসেসিং (চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ) কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একজন জাতীয় ব্যবসায়ীর ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে নির্মিত এই কারখানাটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
কারখানাটি বাঘলানের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ‘চামকালা শিল্প পার্ক’-এ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কর্মকর্তা, শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধি, উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাঘলানের গভর্নর আবদুল্লাহ মুখতার বলেন, ইসলামিক আমিরাত দেশে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে জাতীয় ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাইস প্রসেসিং কারখানার মতো শিল্প প্রকল্পগুলো অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রাদেশিক শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধি মোহাম্মদ নাঈম হামকার এই প্রকল্পটিকে প্রদেশের শিল্প ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামকারের মতে, বাঘলান সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মধ্যে এটিই প্রথম রাইস প্রসেসিং কারখানা, যা প্রদেশের সামগ্রিক কৃষি শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারী গোলাম নাসির বারাকাতজাই জানান, ২০ লাখ ডলার ব্যয়ে এই কারখানাটি নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এটি চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—উভয় ধরনের বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে সহায়তা করা, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বারাকাতজাই আরও যোগ করেন, বিনিয়োগকারীরা বাঘলানে শিল্প ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রদেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দারা এই প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা এটিকে বেকারত্ব হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারখানাটিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চাল প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় অবদান রাখবে। সূত্র: আরিয়ানা নিউজ
অনুবাদ: আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ
হাআমা/
