তালেবানের সঙ্গে জ্বালানি ও পানি সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ইরান

by hsnalmahmud@gmail.com

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে ইরান। ইরানের জ্বালানি মন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদী দুই দেশের মধ্যে এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আভাস দিয়েছেন। কাবুলে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের বরাত দিয়ে আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ মে কাবুলে ইরান ও তালেবান কর্মকর্তাদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইরানি জ্বালানি মন্ত্রী এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

বর্তমানে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে আফগানিস্তান। দেশটিকে তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয়। তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট। বাকি ৭০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তারা প্রতিবেশী দেশ উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং ইরান থেকে আমদানি করে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এই সহযোগিতার প্রস্তাব আফগানিস্তানের সংকট কাটাতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বিস্তার করতে চাইছে।

ইরানের জ্বালানি মন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদী

তবে দুই দেশের সম্পর্ক এখনো বেশ জটিল। ১৯৭৩ সালের একটি চুক্তির ভিত্তিতে পানি অধিকার নিয়ে ইরান ও তালেবানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ইরানের অভিযোগ, তালেবান প্রশাসন তাদের পানির ন্যায্য অংশ দিচ্ছে না। অন্যদিকে, তালেবান এর পেছনে তীব্র খরা পরিস্থিতি এবং তাদের নিজস্ব বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।

নিরাপত্তা পরিষদে নজর রাখতে চায় কিরগিজস্তান

এদিকে মধ্য এশিয়ার ভূরাজনীতিতে আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতি সাদির জাপারভ। তিনি ঘোষণা করেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে তাঁর দেশ আফগানিস্তান পরিস্থিতির দিকে বিশেষ মনোযোগ দেবে।

গত রবিবার (১৭ মে) রাষ্ট্রপতির প্রেস অফিস থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাপারভ বলেন, মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের পরিস্থিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই কিরগিজস্তান নারী ও শিশুসহ আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আফগানিস্তানের পর্যায়ক্রমিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক একীকরণের প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করেন।

আগামী ৩ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি অস্থায়ী সদস্য পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতাদের সমর্থন চেয়েছেন জাপারভ।

আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এই অঞ্চলের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়ারও। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু সম্প্রতি জানিয়েছেন, বর্তমানে আফগানিস্তানে ১৮ থেকে ২৩ হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য দেশগুলোর জন্য আফগানিস্তানের এই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

অনুবাদ: আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222