এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে একটি পাগলা মহিষের আকস্মিক আক্রমণে দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার রাতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মজিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর আগে গত রবিবার উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি মারা যান। এ নিয়ে পশুর হাটে মহিষের তাণ্ডবে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইজনে। নিহতদের মধ্যে মজিবুর রহমান সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে এবং রুহুল আমিন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক খামারি বিক্রির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি মহিষ নিয়ে সানন্দবাড়ী পশুর হাটে আসেন। হাটে তোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি মহিষ হঠাৎ বিগড়ে গিয়ে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও হিংস্র আচরণ শুরু করে। মহিষটি পাগলের মতো পুরো হাটের ভেতর ছোটাছুটি করতে থাকে এবং সামনে যাকে পায় তাকেই শিং দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। এ সময় মহিষের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। একপর্যায়ে মহিষটি হাটে আসা রাজিবপুরের বাসিন্দা রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জনকে গুরুতরভাবে জখম করে। উপস্থিত জনতা রক্তাক্ত অবস্থায় রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে এই ঘটনায় গুরুতর আহত মজিবুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহিষের এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ ক্রেতা ও স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, সানন্দবাড়ী হাটে হঠাৎ মহিষের আক্রমণে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং এ নিয়ে মোট দুইজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো। এই ন্যাক্কারজনক দুর্ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। হাট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিএইচএ/
