৩৬নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তাঁর জালিয়াতি ও দুর্নীতির সমস্ত নথিপত্র পাঠানোর জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এই অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রস্তাবে শুধু দুদকের দায়ের করা পাসপোর্ট জালিয়াতি ও দুর্নীতির ৬টি মামলার নথিপত্র যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব নথিপত্র পাওয়ার পর বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমিরাতের আদালত। নথিপত্রের কোনো জটিলতায় যাতে সাবেক এই আইজিপির দেশে ফেরা আটকে না যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। নথি প্রস্তুত হয়ে গেলে সেগুলো প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখায় পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাবে সেগুলো যুক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করবে। সে দেশের আদালত দেখবেন, যে অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ বেনজীরকে ফেরত চাইছে, সেই ধরনের অপরাধ আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না। নথিগুলো দেখার পর দুবাই কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে বাংলাদেশে বেনজীরের ন্যায্য বিচার হবে, তবেই তাকে ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ১৭টি, দুদকের ৬টি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) ৩টি পরোয়ানা রয়েছে। দুদকের ৬টি মামলার মধ্যে একটিতে ইতোমধ্যে পরোয়ানা জারি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অভিযোগগুলোর মধ্যে গুম কমিশনের দেওয়া অভিযোগ, শাপলা চত্বরে গণহত্যাসহ সারা দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকে দেশে ফেরাতে দুবাইয়ে যে প্রত্যর্পণের প্রস্তাব পাঠানো হবে, সেখানে জটিলতা এড়াতে শুধু দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি ও জালিয়াতির নথিপত্র পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে দুদকের যে মামলায় পরোয়ানা জারি হয়েছে, সেটি যুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে সেই পরোয়ানার কপি আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে, যা দ্রুতই পাঠানো হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, চুক্তি না থাকলেও আমরা পারস্পরিক আইনি সহায়তার (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট-এমএলএআর) মাধ্যমে এই কার্যক্রম এগিয়ে নেব। এই প্রক্রিয়ায় দুই দেশের সরকার ও তদন্ত সংস্থা একে অপরের সঙ্গে তথ্য, প্রমাণ এবং পলাতক আসামির প্রত্যর্পণসংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকে।
অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বেনজীরকে ফেরাতে এখন পুলিশের তেমন কোনো কাজ নেই। এনসিবি শাখা থেকে রেড নোটিস জারি করার পরই আমাদের কাজ শেষ হয়েছে। এখন দুদক নথিপত্র প্রস্তুত করবে এবং বাকি প্রক্রিয়া স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পন্ন করবে। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ৬টি মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত একত্র করে দ্রুত আরব আমিরাত সরকারকে অনুরোধ চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
টিএইচএ/
