ক্রীড়া ডেস্ক :: নতুন উচ্চতায় এখন মিশরের সালাহদের অবস্থান। বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই চাপ, উত্তেজনা আর নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ। এমন এক সন্ধিক্ষণে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাঠে নামার আগে তার সামনে রয়েছে একাধিক রেকর্ড গড়ার হাতছানি। অন্যদিকে মোহাম্মদ সালাহকে সামনে রেখে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখছে মিশর। তাই শেষ ষোলোর এই লড়াই শুধু দুই দলের নয়, এটি হতে পারে নতুন কয়েকটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের জন্ম দেওয়া একটি ম্যাচও।
রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় পেয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে প্রথম গোলটি করেন লিওনেল মেসি। যদিও দুইবার এগিয়ে গিয়েও সমতায় ফিরে আসে প্রতিপক্ষ, শেষ পর্যন্ত রোমেরোর হেড প্রতিপক্ষের ডিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় সাত। ফলে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি আলাদা আসরে অন্তত সাতটি করে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। পরে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেও সাত গোল করে সেই কীর্তির পাশে নিজের নাম লেখান। এদিকে নরওয়ের তারকা এরলিং হলান্ডও প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই সাত গোল করেছেন। তবে মেসির সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য। মিশরের বিপক্ষে গোল করতে পারলে ১৯৩০ সালের গিয়ের্মো স্তাবিলের পর এক বিশ্বকাপে আট গোল করা দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হবেন তিনি।
শুধু তাই নয়, এই ম্যাচে গোল পেলে বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করা ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখাবেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন জাস্ট ফন্টেইন, জাইরজিনহো, গার্ড মুলার, রিভালদো ও হামেস রদ্রিগেস। দলগতভাবেও ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে আর্জেন্টিনার সামনে। তাদের শেষ ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রতিটিতে অন্তত দুটি করে গোল রয়েছে। মিশরের বিপক্ষেও যদি দুই বা তার বেশি গোল করতে পারে, তাহলে ১৯৫৪ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত দুই গোল করার রেকর্ড গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।
অন্যদিকে মিশরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে তারা এই ম্যাচে জায়গা করে নিয়েছে। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টে নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারাও ধরে রেখেছে। আফ্রিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে এর আগে ক্যামেরুন, সেনেগাল, ঘানা ও মরক্কো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছে। এবার সেই তালিকায় নিজেদের নাম যুক্ত করার স্বপ্ন দেখছে মিশর। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা মোহাম্মদ সালাহ। হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে শঙ্কা থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিট খেলেছেন তিনি। টাইব্রেকারেও দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেনাল্টি থেকে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সালাহ ১৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও দুটি সুযোগ তৈরি করতে পারলে ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংয়ের গড়া ১৮টি সুযোগ সৃষ্টির আফ্রিকান রেকর্ড স্পর্শ করবেন তিনি। ম্যাচটি তাই শুধু শেষ ষোলোর লড়াই নয়, এটি হতে যাচ্ছে রেকর্ড, ইতিহাস আর স্বপ্নের এক মহারণ। মেসি কি নতুন কীর্তি গড়বেন, নাকি সালাহর নেতৃত্বে মিশর ঘটাবে বড় চমক; তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।
মিশর যদি আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে, তাহলে শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড।
