লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট যোগে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং লিবিয়া সরকারের সার্বিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিবিড় সমন্বয়ে এই বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় আটকে পড়া এই নাগরিকদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর তারা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হন। তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে অমানবিক জীবনযাপনের পাশাপাশি অপহরণ ও চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ করেছেন।
ভোরে বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে মানবপাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভুক্তভোগীদের এই দুর্বিষহ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকায় সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়, যাতে নতুন করে কেউ আর এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথের যাত্রী না হন। বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পক্ষ থেকে ফিরে আসা প্রত্যেক নাগরিককে জরুরি পকেট মানি বা পথখরচ, খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে সাময়িক বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো অনেক বাংলাদেশি নাগরিক আটকাবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে বন্দি থাকা প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। আগামী দিনগুলোতে এই উদ্ধার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।
টিএইচএ/
