বারুইপুরকাণ্ডে ২০০ জন চিহ্নিত, কাউকেই ছাড় নয়: শুভেন্দু অধিকারী

by Abid vs36

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে মুসলিম শিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি এবং এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) দপ্তরে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সেখানে তিনি জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। এই জঘন্য ও সংবেদনশীল অপরাধের পেছনে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্টের বর্তমান অবস্থা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে জেলা পুলিশের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বৈঠকে দ্রুত ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী এসপি অফিসে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে নিহত কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা আসেন। তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে শোকার্ত পরিবারের দাবি-দাওয়া এবং উদ্বেগের বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শোনেন।

বিজ্ঞাপন
banner

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই সংবেদনশীল ঘটনায় কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তে কোনো রকম আপস করা হবে না। দোষীদের ফাঁসি বা সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে। পরে বারুইপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমি রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। তারপরেই কড়া ব্যবস্থা নেব এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গেই কথা বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় নতুন পুলিশ আউটপোস্ট চালু করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে আমি আবার এই এলাকায় আসব এবং সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা আপনারা স্পষ্ট দেখতে পাবেন।

ঘটনার পর সৃষ্ট স্থানীয় বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যারা আইনের তোয়াক্কা না করে পুলিশের গাড়ি ভেঙেছেন, রেললাইন উপড়েছেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরনের সহিংস ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে। যারা ভোটে হেরে উসকানি ছড়াচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমি ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডের তিন আইপিএস কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করেছি। বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। তবে এই ঘটনার পর যারা সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করেছেন, এমন ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহিংসতায় তিনজন পুলিশ কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, আমি নিজে তাদের দেখতে যাচ্ছি।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222