বাংলাদেশসহ এশীয়দের জন্য তেলের দামে সৌদির বিশাল ছাড়

by Masudul Kadir

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: এশিয়ার বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে গত দুই দশকের মধ্যে তেলের দামে সবচেয়ে বড় মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব।

সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’ আগামী আগস্ট মাসের সরবরাহের জন্য তাদের প্রধান ক্রুড ‘আরব লাইট’ তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ওমান এবং দুবাইয়ের গড় দরের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১.৫০ ডলার কমিয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১১ ডলার কম। এছাড়াও দেশটি তার অন্য চারটি গ্রেডের দামও ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার কমিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সৌদি আরবের এই আকস্মিক পদক্ষেপ গত মাসে মার্কিন-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির প্রতিফলন, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তেল সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী তেলের দামও কমে গেছে।

তেল ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চাহিদা বাড়াতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য সরবরাহকারীরাও যে দাম কমিয়েছে তাই নয়, ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক এমা লি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের মূল্যছাড় অস্বাভাবিক নয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্পট গ্রেডের তেল আরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেলের চাহিদা দুর্বল থাকায় ক্রেতারা এখন কম দামের বিকল্পের দিকেই ঝুঁকছেন।

এদিকে এত বড় ছাড়ের পরও পরিবহন ব্যয়ের জটিলতার কারণে এশিয়ার বাজারে সৌদি তেলের অবস্থান কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। পারস্য উপসাগরের ভেতর থেকে তেল আনার জাহাজ ভাড়া ও ঝুঁকি বেশি হওয়ায়, অন্যান্য উৎস- যেমন আরব আমিরাত এবং ওমানের বন্দর থেকে তেল কেনা ক্রেতাদের কাছে এখনও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মনে হচ্ছে।

ভারতের একটি তেল শোধনাগারের এক কর্মকর্তা বলেন ‘আমিরাত এবং ওমানের একই মানের তেল আরও কমদামে পাওয়া গেলে, আমি কেন সৌদি তেল কিনব?’

আরেকজন ব্যবসায়ী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, উপসাগরের অভ্যন্তরে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে ২০ লাখ ব্যারেল বহনক্ষম একটি সুপার ট্রাংকার বোঝাই করার খরচ ওমানের সোহার বন্দরের দ্বিগুণেরও বেশি, যা অর্থনৈতিকভাবে তেলের দামকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

অন্য একটি বাণিজ্যিক সূত্র অনুমান করেছে, উপসাগরের বাইরে থেকে (ওমান) তেল তোলার চেয়ে ভেতর থেকে (সৌদি বন্দর) তেল তুলতে ব্যারেলপ্রতি ১৫ ডলার বেশি খরচ হবে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সরাসরি বড় পরিমাণে অপরিশোধিত সৌদি তেল না কিনলেও, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পরিশোধিত তেলের (ডিজেল ও জেট ফুয়েল) বাজারও সস্তা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি খরচ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা লাঘব হবে।

সূত্র: রয়টার্স

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222