স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমেই ফরাসি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন শুধুই তার। তবে এমন এক দুর্দান্ত ব্যক্তিগত অর্জনের রাতটা এমবাপ্পের জন্য শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল শুধুই হতাশার। হুগো লরিসের রেকর্ড ভাঙার এই রাতেই স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফ্রান্সকে।
মঙ্গলবারের এই সেমিফাইনালটি ছিল বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ২১তম ম্যাচ। মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা কোয়ার্টার ফাইনালেই তিনি ছুঁয়েছিলেন ২০১৮ ও ২০২২ আসরে ফ্রান্সের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক হুগো লরিসের ২০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। আর ডালাসে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমেই লরিসকে ছাড়িয়ে এককভাবে চূড়ায় বসলেন ফরাসি অধিনায়ক। এই রেকর্ড গড়তে এমবাপ্পের লেগেছে মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ।
২০১৮ সালের শিরোপা জয়ী আসরে ৭টি, ২০২২ সালের রানার্সআপ হওয়া আসরে ৭টি এবং ২০২৬ সালের চলতি আসরে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ৭টি, মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এমন এক ধারাবাহিকতা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। চার বা পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা অনেক কিংবদন্তিকেও ম্যাচ খেলার দিক থেকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। ফরাসি দল যদি আগামী বছরগুলোতেও নিজেদের এই দাপট ধরে রাখতে পারে, তবে এই সংখ্যাটা যে কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনই বলা মুশকিল।
অবশ্য এমবাপ্পের এত বেশি ম্যাচ খেলার পেছনে ফ্রান্সের দলীয় সাফল্যও দারুণ ভূমিকা রেখেছে। তার অভিষেকের পর থেকে ফরাসিরা কখনোই সেমিফাইনালের আগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়নি। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালে তারা খেলেছিল ফাইনাল। এবার স্পেনের বিপক্ষেও তারা টানা তৃতীয় ফাইনালের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল।
ম্যাচ খেলার রেকর্ডের পাশাপাশি আরও একটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে সেমিফাইনাল শুরু করেছিলেন এমবাপ্পে। এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ছিল ২০টি, যা লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র ১টি কম। ফরাসিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ার রাতে মেসিকে ছোঁয়া বা ছাড়িয়ে যাওয়ারও দারুণ সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু স্প্যানিশ রক্ষণে আটকে গিয়ে সেই সুযোগ তো হাতছাড়া হয়েছেই, উল্টো স্বপ্নভঙ্গের বিষাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে এমবাপ্পেকে।
টিএইচএ/
