বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস — প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা — ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU)-এর কিছু শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের নোটিশ জারির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ, সভাপতি পরিষদ সদস্য আশরাফুল ইসলাম সাদ ও মাহদী হাসান শিকদারের এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, UIU কর্তৃপক্ষ যে স্বৈরাচারী ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি। আমরা জানতে পেরেছি, আন্দোলনের শীর্ষ সারির ১০ জনের অধিক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের নোটিশ পাঠানো হয়েছে, এবং এর আগেই এক শিক্ষার্থীর ওপর কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মতো বর্বরোচিত হামলা হয়েছে — যা আমাদেরকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।
আরো বলেন, বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগ-মুহূর্তে, যখন অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঢাকা শহরের বাইরে অবস্থান করছেন, তখন ইমেইলের মাধ্যমে বহিষ্কারের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এটি একটি চক্রান্তমূলক ও পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ, যাতে শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ নষ্ট হয়।
তদন্ত কমিটি বেআইনী উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৭ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ রেখে একটি লোকদেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা কোনোভাবে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন না করে এবং অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার না নিয়ে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, একটি একক ও ফ্যাসিবাদী মনোভাবের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। এই তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ইউজিসি কর্তৃক স্বীকৃত নয় এবং এতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কোনো অংশগ্রহণ বা জবাবদিহিতার সুযোগ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখে এমন গোপন ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে UIU কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চায় — যা জুলাই স্পিরিট ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি—
১. বহিষ্কারের আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. শিক্ষার্থীদের সকল ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে।
৩. দোষীদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বৈধ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
হাআমা/
