নিজস্ব প্রতিবেদক :: কওমি সনদের পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ,ঢাকা মহানগর উত্তর।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কবি নজরুল ইসলাম হলে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের কাউন্সিল ও সদস্য সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
জমিয়ত বলেছে, ‘জমিয়ত কোনো বিদেশি প্রভুর গোলামী করে না’ দলটির রাজনীতি কোনো বিদেশি শক্তি বা প্রভুর স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং ইসলামের আদর্শ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জাতির সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মহানগর উত্তরের সভাপতি মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুর মোহাম্মদ কাসেমীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী,মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাসউদুল করিম,মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন,সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দিন খান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী,প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি আনোয়ার মাহমুদ, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা তাজুল ইসলাম আশরাফী, মুফতি মাহবুবুল আলম, মাওলানা আখতারুজ্জামান, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম মাওলানা খন্দকার ফখরুদ্দীন হোসাইনী,মুফতি নুরুল আলম ইসহাকী, মাওলানা মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা ইসহাক কামাল, ছাত্র জমিয়ত সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী,মাওলানা আনোয়ার হোসাইন ঢাকুবী ,মাওলানা ফজলে ইলাহী, মাওলানা শহীদুল্লাহ, মাওলানা নূরুল ইসলাম,মাওলানা আনিসুর রহমান,মাওলানা আবু বকর, মাওলানা হোসাইন,সিদ্দিক,মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আহমদ শফী, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা ইয়াকুব, মাওলানা মিনহাজুল আরেফীন, মাওলানা আঃ হাকীম, মাওলানা অসিউর রহমান, মুফতি আবু হানিফা, মুফতি মুজিবুর রহমান ও মাওলানা হেলাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,জমিয়তের নীতি ও অবস্থান সবসময় দেশের স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে নির্ধারিত হয়। কোনো দেশ, গোষ্ঠী বা শক্তির প্রভাব কিংবা নির্দেশে পরিচালিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা জমিয়তের নৈতিক ও আদর্শিক দায়িত্ব।
বক্তারা আরো বলেন, জুলাই শহীদদের পূর্ণ মূল্যায়ন করতে হবে যারা এখনো আহত অবস্থায় আছে তাদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে হবে। কওমি মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা এ দেশের নাগরিক। বাজেট সহ বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে অবহেলিত করে রাখা হয়েছে। তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলন থেকে গৃহীত প্রস্তাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, কওমি সনদের পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে কওমি মাদরাসাকে ঘিরে কটাক্ষমূলক বক্তব্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা বন্ধে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সন্ত্রাস, নারীধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনগণ উদ্বিগ্ন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে অবিলম্বে জনকল্যাণমুখী ও অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সুনাগরিক গঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
সম্মেলনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দ্রুত কার্যকর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য, সংযম ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।
কাউন্সিলে মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমীকে সভাপতি, মাওলানা নুর মোহাম্মদ কাসেমীকে সাধারণ সম্পাদক ও মাওলানা তাহের সাঈদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
