টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলার সীমান্তবর্তী সড়কের ওপর গাছপালা ও পাহাড়ের বিশালাকার মাটি ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ধস নামা স্থানে কোনো বসতবাড়ি না থাকায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী বালিঝুড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের পেছনে গলাচিপা এলাকায় এই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে ভারতের মেঘালয় সংলগ্ন শেরপুরের সীমান্ত এলাকায় একটানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে সীমান্তবর্তী শ্রীবরদীসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের দাপট ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে বেশ কিছু নিচু এলাকায় পাহাড়ি ঢলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও মানুষের পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শেরপুর পাউবো সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে নির্দিষ্ট কোনো বৃষ্টিপাত পরিমাপ কেন্দ্র না থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীবরদী বা শেরপুরে ঠিক কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
শ্রীবরদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ও লিডার মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, পাহাড় ধসের বিষয়টি জানা মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও প্রস্তুতি অনুযায়ী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দল প্রস্তুত রয়েছে।
বালিঝুড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, পাহাড় ধসের ফলে অনেকগুলো পরিপক্ক গাছ ভেঙে পড়ে প্রধান পথ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সড়কটি থেকে গাছপালা ও ধসে পড়া মাটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত এতে যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
টিএইচএ/
