৩৬নিউজ ডেস্ক: টানা অতিভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা এবং একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগে সার্বিক দুর্যোগ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে থাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে লাখ লাখ পরিবার এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার জেলায়, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ ছাড়া চট্টগ্রামে আটজন, বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙ্গামাটিতে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে প্লাবনের তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে আশিক (১১) ও মিরাজ (৬) নামে দুই শিশুর সলিলসমাধি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, জেলার ১৬টি উপজেলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। কেবল এই দুই উপজেলাতেই পাঁচ লাখের বেশি মানুষ জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সাতকানিয়ার ৪ লাখের বেশি মানুষ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর স্পিডবোটের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। সাঙ্গু ও ডলু নদীর জোয়ার ও ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যাতায়াত যেকোনো মুহূর্তে পুরো বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গম উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে দুর্গতদের জন্য ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ২৩ হাজার ৮৫৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সরকার বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা থেকে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিতরণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাশাপাশি পর্যটন জেলাগুলোতেও বিপর্যয় নেমে এসেছে। কক্সবাজারে চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকা প্লাবিত হয়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। রাঙ্গামাটির সাজেক উপত্যকায় আটকে পড়া ৪৬১ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে ১২ জুলাই পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় অতিভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের চরম ঝুঁকি বহাল থাকবে।
টিএইচএ/
