৩৬নিউজ ডেস্ক: মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূলীয় বঙ্গোপসাগর থেকে পাঁচটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একটি কঙ্কাল, তিনটি অর্ধগলিত দেহ এবং কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মাথা ও দুই পা বিচ্ছিন্ন খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে। একের পর এক বিকৃত মরদেহ ভেসে আসার ঘটনায় উপকূলীয় সীমান্ত এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক তদন্ত দল মাঠে নেমেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের কচুবুনিয়া-কাটাবুনিয়া সংলগ্ন সাগরে জোয়ারের পানিতে একটি মানুষের কঙ্কাল ভেসে আসে। স্থানীয়রা খবর দিলে শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীবের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করে। পানির প্রবল লোনাভাব এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকায় দেহটি পচে পুরোপুরি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টেকনাফের তিনটি আলাদা স্থান থেকে তিনটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওইদিন দুপুরে সেন্টমার্টিন সৈকত, বিকেলে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সৈকত এবং সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সৈকত থেকে এসব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একটি নারীর মরদেহও রয়েছে।
একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পর্যটননগরী কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের সাথে ভেসে আসে মাথা ও কোমরের নিচের দুই পা বিচ্ছিন্ন আরেকটি খণ্ডিত মরদেহ। সমুদ্রসৈকতে দায়িত্বরত বিচকর্মী খোরশেদ আলম বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই সরোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে খণ্ডিত উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। বিকৃত ও পচে যাওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটি নারী নাকি পুরুষের দেহ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর মূল কারণ স্পষ্ট হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবৈধভাবে ট্রলারে মালয়েশিয়াগামী মানব পাচারকারী নৌযানের কোনো বিপর্যয়, বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি কিংবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় কোনো নৌকাডুবির ফলে এই প্রাণহানি ঘটে থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন থানার নিখোঁজ ডায়েরির পাশাপাশি সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনার তথ্য যাচাই করে দেখছে।
টিএইচএ/
