দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা

by Abid vs36

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির দীর্ঘ সময়ের আলোচিত ও প্রভাবশালী মুখ এবং সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রায় দুই বছর লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছেন। তবে দেশের মাটিতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা মিছিলে নয়, দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের একটি কর্মীসভায় তাকে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তার অবস্থান ও উপস্থিতি নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চললেও দীর্ঘ এই বিরতির পর তিনি প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিলেন।

নিউইয়র্কের ওই কর্মীসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় শামীম ওসমানকে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে কিছুটা আত্মসমালোচনার সুরে কথা বলতে শোনা যায়। বক্তব্যে তিনি নিজেকে ‘ব্যর্থ’ বলে স্বীকার করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সকল অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। এ সময় তার পুরোনো রাজনৈতিক অঙ্গনের সেই আলোচিত ‘খেলা হবে’ স্লোগান বা মেজাজ কিছুটা ফুটে উঠলেও তিনি উল্লেখ করেন যে, কে বড় নেতা আর কে ছোট নেতা—সেটি এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দলের টিকে থাকার স্বার্থে এখন ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন
banner

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতীত কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শামীম ওসমান দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অনেক আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। বিশেষ করে ধর্মীয় উগ্রপন্থী বা ফান্ডামেন্টালিস্ট গোষ্ঠীর কার্যক্রমের ওপর তিনি সবসময় কড়া নজর রাখতেন বলে জানান। পাশাপাশি বিএনপি এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও তিনি নিজের বক্তব্যে বিভিন্ন মন্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক শীর্ষ নেতা গোলাম আজমের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রসঙ্গটি টেনে এনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে জোরালো করার চেষ্টা করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের উত্তাল ও রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। শামীম ওসমানের দাবি অনুযায়ী, ওই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে গত বছরের ২ আগস্ট রাতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করেছিলেন। ওই সময় তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া, সান্ধ্য আইন বা কারফিউ প্রত্যাহার করা এবং তার নিজের শক্ত ঘাঁটি নারায়ণগঞ্জে বিশাল এক জনসমাবেশ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার ভাষ্যমতে, নারায়ণগঞ্জে তার দেড় থেকে দুই লাখ অনুসারী ও সাধারণ মানুষ জড়ো করার সক্ষমতা ছিল এবং আশপাশের জেলাগুলোতেও বার্তা পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও ব্যাপক রক্তপাত এড়াতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সংঘাতে না গিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমানসহ পুরো ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিশেষ করে ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিশু রিয়া গোপসহ বেশ কয়েকজন নিরপরাধ মানুষ নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। এসব সহিংস ঘটনার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের এই প্রতাপশালী নেতা জনসমক্ষে আর আসেননি এবং গোপনে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যার অভিযোগে শামীম ওসমানসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এমন এক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শামীম ওসমানের আকস্মিক প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর তাকে এভাবে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রবাস ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222