মুজিব হাসান >>
গত পরশু মারা গেলেন দাউদ হায়দার। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিতর্কিত ও নির্বাসিত কবি। ১৯৭৪ সালে তার এক কবিতায় তিনি নবীজির (সা.) মর্যাদায় মারাত্মক আঘাত করেছিলেন। কবিতার লাইন ছিল, ‘মুহাম্মদ তুখোড় বদমাশ!’ (নাউজুবিল্লাহ) (প্রকাশকাল: দৈনিক সংবাদ; ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪, কবিতার নাম: কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়)
এর শাস্তি তিনি তাৎক্ষণিক পেয়ে যান। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগণ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এই গোস্তাখে রাসুলের শাস্তি দাবি করে। তখন শেখ মুজিব সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকান। কিন্তু কিছুদিন পর সরকারি হেফাজতে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কলকাতায়। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর তিনি জার্মানিতে আশ্রয় পান। আর কখনো দেশে ফিরতে পারেননি।
এই দাউদ হায়দারকে বলা যায় ইসলামবিদ্বেষীদের গডফাদার। হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন প্রমুখ তাদের লেখায় ধর্মকে অবমাননা করার ‘দুঃসাহস’ দাউদ হায়দার থেকেই পেয়েছেন। ষাট-সত্তরের দশকে তার রেখে যাওয়া ‘ধর্মবিদ্বেষের বীজ’ দিনে-দশকে বাড়তে থাকে। আশি-নব্বই ও শূন্য দশকজুড়ে হুমায়ুন আর তসলিমারা এটাকে সিক্ত করতে থাকেন। এভাবেই গড়ে ওঠে ধর্ম অবমাননাকারীদের ‘পুষ্টির’ গুদাম।
দাউদের উত্তরসূরি লেখকগোষ্ঠী ও মিডিয়া এখন তাকে ‘মহিয়ান’ করে তুলছেন। তার নির্বাসিত জীবন নিয়ে মায়াকান্না দেখাচ্ছেন। বলছেন, দাউদ হায়দার ছিল মৌলবাদ ও জঙ্গীপনার বিরুদ্ধে প্রথম কণ্ঠস্বর। কিন্তু দাউদ হায়দার যে মুসলিম সমাজের প্রাণের স্পন্দন নবীজিকে নিয়ে কটূক্তি করলেন, তার মর্যাদায় আঘাত দিলেন; এর শাস্তি হিসেবে পেলেন নির্বাসন জীবন, এ নিয়ে তারা কিছুই বলছেন না। কারণ তাদের পরিভাষায় ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ ‘মৌলবাদ’ আর ধর্মবিদ্বেষীদের শাস্তির দাবি করা ‘জঙ্গীপনা’!
এআইএল/
