নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশে যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে এবং এবার কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না।
তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
শনিবার বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি মাছউদ বলেন, জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রায় ১৮ লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা সবাই একযোগে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার মানসিকতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচন প্রতিকূলে যায়-এমন কোনো কার্যক্রম কমিশন সমর্থন করে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
নির্বাচন কমিশনারের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচন কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা পোস্টার অপসারণ ও সফর বাতিলসহ বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলছেন, যা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলগুলোর পারস্পরিক বক্তব্য ভোটযুদ্ধের অংশ এবং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা উচিত। তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান।
মতবিনিময় সভায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাআমা/
