মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মেয়াদে চালু হওয়া শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম কর্মসূচি নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে অনেক শিক্ষার্থী আয়ের উৎস হারিয়েছেন, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও বাজেটসংকটের কারণেই আপাতত কার্যক্রমটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি প্রবেশপথে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা চেকপোস্ট পরিচালনা করতেন। এর মাধ্যমে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। আর দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট সম্মানী দেওয়া হতো, যা দিয়ে অনেকেই পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতেন।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইয়াসমিন জানান, প্রতি দুই ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের জন্য তারা ৮০ টাকা করে সম্মানী পেতেন, যা ব্যক্তিগত খরচ চালাতে সহায়তা করত। কর্মসূচিটি বন্ধ হওয়ায় আর্থিক সংকট বাড়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। অন্য শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে টিউশনি পাওয়া বেশ কঠিন। ফলে এই পার্ট টাইম কাজটি অনেক শিক্ষার্থীর আয়ের প্রধান ভরসা ছিল। এটি বন্ধ হওয়ায় বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে বিএনসিসির সেনা শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার তানভীর আহমেদ হামজা জানান, নতুন প্রশাসন আসার পর কর্মসূচিটি বন্ধ করে প্রক্টর অফিস থেকে সম্মানী সংক্রান্ত জটিলতার কথা জানানো হয়। বিএনসিসির বিমান শাখার কর্মকর্তা মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, নিরাপত্তা দায়িত্বে কোনো সংগঠন অবহেলা করেছে এমন অভিযোগ প্রক্টর অফিস থেকে কখনো তাদের জানানো হয়নি। প্রক্টর তাদের বলেছিলেন নতুন প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেই ডিউটি শুরু হবে, কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসেনি।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের কাজের প্রতি কিছুটা মোটিভেশনের ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। ৯টি গেটের মধ্যে তারা ৩ থেকে ৪টিতে দায়িত্ব পালন করলেও বাকিগুলোতে নিয়মিত ছিলেন না। পাশাপাশি বরাদ্দেরও কিছু বাজেটসংকট রয়েছে। তবে তারা নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলে এবং নতুন বরাদ্দ পেলে এই কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। এটি চালু থাকলে প্রক্টরিয়াল বডির জন্যও নিরাপত্তা রক্ষা সহজ হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার জানান, সম্প্রতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন। আগামী সিন্ডিকেট সভায় এটি অনুমোদন পেলে গেটগুলোতে পুনরায় চেকপোস্ট চালু করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে চেকপোস্ট বন্ধ থাকার সুযোগে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই পার্ট টাইম কর্মসূচি চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
টিএইচএ/
