বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় করতোয়া নদীর তীরবর্তী গভীর জঙ্গল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, বিপুল মাদক, নগদ টাকা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকারসহ তিন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচালনা করে এই অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাহিনীর আরও পাঁচ থেকে সাত সদস্য নদী সাঁতরে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কথিত সন্ত্রাসী চক্রের মূলহোতা রকি ও তার অন্যতম প্রধান সহযোগী রাকিবসহ মোট তিনজন। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় করতোয়া নদীর পাড়ে একটি পরিত্যক্ত পেপার মিল ও টিএমএসএস কারখানার পেছনের জঙ্গলঘেরা নির্জন জায়গায় পলিথিন ও তাঁবু টাঙিয়ে তারা একটি অস্থায়ী আস্তানা গড়ে তুলেছিল। সেখান থেকে পুরো চক্রটি মাদকের কারবার পরিচালনা করা ছাড়াও লোকজনকে অপহরণ, আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় করত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস দল শনিবার রাতে ওই নির্জন আস্তানায় ঘেরাও করে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে একটি উচ্চমানের বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, বিভিন্ন ধারালো দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদক এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিচার্জেবল বৈদ্যুতিক শকার যন্ত্র। ডিবি পুলিশ জানায়, জিম্মি ও অপহৃত ব্যক্তিদের দ্রুত কাবু করতে এবং দাবি করা টাকা আদায়ে তাদের ওপর এই বৈদ্যুতিক শকার প্রয়োগ করে নৃশংস নির্যাতন চালানো হতো।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিবির পরিদর্শক (ইনচার্জ) ইকবাল বাহার জানান, প্রধান আসামি রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিল চোরাচালানের একাধিক মামলা রয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন মামলায় তারা গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে এলাকা ছেড়ে নদীর তীরের এই দুর্গম আস্তানায় পুনরায় অপরাধচক্র গড়ে তোলে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনে মামলা দায়ের এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টিএইচএ/
