বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহিরাগত প্রতিহত করার অভিযোগে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপাচার্য ও প্রক্টরের উপস্থিতির মধ্যেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উভয় পক্ষের এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, স্বৈরাচার সরকার পতন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির “অদম্য জুলাই” শীর্ষক একটি র্যালি বের করে। তবে র্যালিতে বহিরাগতদের যুক্ত করে শোডাউন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে তাতে বাধা দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জাকারিয়া ইসলাম বাবু দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে এবং ছাত্রদল সন্ত্রাসীর মতো হামলা চালিয়ে তাদের কর্মসূচি পণ্ড করতে চেয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত বলেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে শোডাউন দেওয়ায় তারা প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু শিবিরই উল্টো তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর এমন ঘটনা অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করে এর তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি বেলাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টিএইচএ/
