গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিজয়-২৪ হল, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম ও বিভিন্ন আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে ড. জোহা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘জুলাই সনদ মেনে নে, নইলে গদি ছাইড়া দে’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘আলী-রায়হান-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘গণভোটের গণরায়, মানতে হবে মেনে নাও’সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীবের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিদায় করেছিল। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার মূল লক্ষ্যেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রয়োজন। জনগণ গণভোটে ইতিবাচক মতামত দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি সংবিধানের দোহাই দেন, তবে ইতিহাস স্মরণ করা উচিত। অবিলম্বে জুলাই সনদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, সরকার গণভোটের মাধ্যমে উঠে আসা জনগণের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে বেইমানি করা হলে ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না। অবিলম্বে জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। জনগণের সুনির্দিষ্ট রায়কে উপেক্ষা করা হলে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
টিএইচএ/
