চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে হাওড়ের জনপদে

by Fatih Work

ডেস্ক রিপোর্ট:

সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরবর্তী প্রত্যন্ত উপজেলা শাল্লা। এখানে একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র—শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বাহ্যিকভাবে দেখতে অবকাঠামো আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হলেও ভেতরে রয়েছে চরম জনবল সংকট। চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে গুরুতর শূন্যতার কারণে স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

৫০ শয্যার এ হাসপাতালে মোট ১৪০ জন জনবলের বিপরীতে ৫৯টি পদ শূন্য। যেখানে ১২ জন ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে কর্মরত মাত্র ৩ জন; এর মধ্যে একজন আবার ডেপুটেশনে কর্মরত শাল্লার বাইরে। নার্সের ক্ষেত্রেও রয়েছে সংকট। এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে কোনোটিই চালু নেই। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে সুনামগঞ্জ বা সিলেটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, হাওড় বিশিষ্ট এবং অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে থাকতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে শাল্লার লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভোগান্তির যেন শেষ নেই। হাসপাতালে এসে ঠিকমতো ডাক্তার পাওয়া যায় না। একজন ডাক্তার কোনোভাবে দেখে কাগজ ধরিয়ে দেন। ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। হাসপাতালের শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা করার যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশয়ান না থাকায় সেগুলো করানো যায়না। এজন্য যেতে হয় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জ বা সিলেট।

মনুয়া গ্রামের এক রোগীর স্বজন বলেন, “এক্সরে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। একটি উপজেলা পর্যায়ের একমাত্র সরকারি হাসপাতাল এভাবে চলতে পারে না।”

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব বিশ্বাস বলেন, “আমরা দুইজন ডাক্তার ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছি। মিটিংয়ে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গাফেলতি নেই। রোগীরা যেন সেবা পায়; সেজন্য সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি আমরা। কিন্তু চিকিৎসকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও জনবল সংকট মারাত্মক। বিষয়টি মিটিংয়ে জানানো হয়েছে।”

সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. আনিসুর রহমান বলেন, “ডাক্তারের সংকট রয়েছে। বিশেষ করে অনেকের শাল্লায় থাকতে অনীহা বেশি। আগামী ডিসেম্বরের ৪৮তম বিসিএসে ডাক্তার পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। অন্যান্য পদেও সংকট রয়েছে পুরো বিভাগের।”

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ মজুমদার বলেন, “১৪০ জনের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত ৮১ জন। ডাক্তার থাকার কথা ১২ জন, কর্মরত ৩ জন (একজন ডেপুটেশনে)। এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন আছে, কিন্তু টেকনিশিয়ান নেই। জনবল সংকটের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222