ইসলামি আকিদা ও আদর্শ থেকে সরে যাওয়া জামায়াত-শিবির কখনোই প্রকৃত অর্থে ইসলামি দল হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা। তারা বলেন, ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মুসলমান ও ধর্মপ্রাণ জনগণকে ধোঁকায় ফেলা হচ্ছে।
আজ রোববার (১২ জানুয়ারি) মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে কওমী মাদরাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও সিরাত সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইত্তেহাদুল উলামা মাগুরা জেলার উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধলহরা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা কাজী জাবের বিন মুহসিন তাজাল্লা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাগুরা পৌর গোরস্থান মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা হাসিবুল্লাহ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রেলওয়ে স্টেশন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল করিম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুশতাক আহমদ (খুলনা), মুফতি আরিফ বিল্লাহ কাসেমী (ঝিনাইদহ), মাওলানা শাহ সাইফুল্লাহসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, যারা ইসমতে আম্বিয়া ও সাহাবায়ে কেরামকে মিয়ারে হক হিসেবে মানে না এবং ইসলামের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাসে বিভ্রান্ত — তারা কখনো ইসলামি নেতৃত্ব দিতে পারে না। জামায়াত-শিবির ইসলামের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, যে দল এক সময় “আকিমুদ্দীন” তথা দ্বীন প্রতিষ্ঠার কথা বলত, আজ তারা নিজেদের লোগো থেকে সেই শব্দও বাদ দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তারা আদর্শিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ থেকে সরে এসে কেবল ক্ষমতার রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ঐক্যের নামে সাধারণ ইসলামপন্থীদের বিভ্রান্ত করা হয়, অথচ পরে ভিন্ন মতাদর্শিক শক্তির সাথে আপোস করা হয়। জনগণ এখন এসব দ্বিচারিতামূলক রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে।
শেষে বক্তারা বলেন, ইসলামের নামে বানোয়াট ঐক্যের ধোঁকা না দিয়ে হক্কানী ও আকিদাভিত্তিক নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং সত্যিকার ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
হাআমা/
