নতুন পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লেও বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়েও সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়ার ভরসা হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
আর্থিক সংকট ও ঘনিয়ে আসা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও এ উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়। সরকারের মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা সম্ভব না হলেও কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সময়ের স্বল্পতা ও ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।
পে কমিশনের প্রতিবেদনে শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নয়, বরং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষা ব্যয়কে প্রধান সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামোই ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন নির্ধারণের মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।
নুর আলম সিদ্দিকী/
