মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোজ্যতেলের তাক প্রায় ফাঁকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১২ এপ্রিল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর থেকেই ডিলাররা তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণ এক বা দুই লিটারের বোতল থাকলেও পাঁচ লিটারের বোতল বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে।
মিরপুরের এক খুচরা বিক্রেতা আমজাদ রহমান বলেন, “কোম্পানির লোক দুদিন ধরে আসছে না। বাজারে শোনা যাচ্ছে, দাম না বাড়লে তারা তেল ছাড়বে না।” তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকটের কারণে পাইকারি বাজারে খোলা তেলের দাম বেড়েছে, যার চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী বদরুজ্জামান জানান, তার দোকানে থাকা শেষ কয়েক বোতল তেল তিনি লিটারপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে নতুন করে আর কোনো সরবরাহ পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে বাজারে তেলের এমন সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সেগুনবাগিচায় তেল কিনতে আসা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “পত্রিকায় পড়েছি তেলের দাম বাড়বে না, সরবরাহ ঠিক থাকবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বোতলজাত তেলই নেই। বাধ্য হয়ে খোলা তেল ২১০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে।”
আরেক ক্রেতা ইয়াছিন আহমেদ অভিযোগ করেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা যোগসাজশ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “সরকারের উচিত শুধু বৈঠক করে আশ্বাস না দিয়ে বাজার তদারকিতে কঠোর হওয়া।”
উল্লেখ্য, গত রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইনে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও সরকার ভোক্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।