আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর, যখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নড়াইল-২ আসনে মনিরুল ইসলামকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে ২০ দিন পর ২৪ ডিসেম্বর তার মনোনয়ন পরিবর্তন করে জোটগত প্রার্থী হিসেবে শরীক দলের নেতা এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ দেয় দল। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকার অনড় অবস্থান নেন এবং মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রার্থিতা বৈধ বলে গণ্য হয়। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে প্রতীক বরাদ্দের দিনে তিনি ‘কলস’ প্রতীক গ্রহণ করার পরপরই কেন্দ্র থেকে তার বহিষ্কারাদেশের চিঠি ইস্যু করা হয়।
নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এই আসনেও জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম, যিনি স্বতন্ত্র হিসেবে কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে অবস্থান করছেন। দলীয় কঠোর অবস্থানের মধ্যেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের এমন তৎপরতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
টিএইচএ/
