সিলেট-৩: রিকশার রাজু নাকি ধানের শীষের মালেক, কে এগিয়ে

by hsnalmahmud@gmail.com

ইলিয়াস মশহুদ >>

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বইছে তীব্র নির্বাচনী হাওয়া। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যত দুই মেরুর দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

একদিকে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা নূর উদ্দীন গহরপুরী (রহ.)–এর ছেলে মাওলানা হাফেজ মুসলেহ উদ্দীন রাজু (রিকশা প্রতীক)। অন্যদিকে আছেন বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এম এ মালেক (ধানের শীষ প্রতীক)।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর বড় শক্তি তাঁর পারিবারিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। আল্লামা গহরপুরী (রহ.)–এর প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা থাকায় ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি বড় অংশ রিকশা প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও কওমি ঘরানার অনুসারীদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা লক্ষণীয়।

অন্যদিকে এম এ মালেকের প্রধান শক্তি হচ্ছে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও ধানের শীষের দলীয় প্রতীক এবং স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের সক্রিয় প্রচেষ্টা তাঁকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে।

ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘প্রবাস বনাম দেশ’ বিষয়টি। এম এ মালেক প্রায় ১৯ বছর দেশের বাইরে থাকায় অনেক ভোটার সংশয়ে রয়েছেন—নির্বাচনের পর তিনি কতটা এলাকায় সময় দিতে পারবেন। এই বিষয়টি তাঁর জন্য কিছুটা নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিপরীতে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় থাকায় এবং নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।

১১ দলীয় জোটের সমর্থন পাওয়ায় মাওলানা রাজুর অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে। সিলেট-৩ আসনে ইসলামি ভোটগুলো তাঁর দিকেই ঝুঁকছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী হিসেবে এম এ মালেক যদি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেন এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে সফল হন, তাহলে ভোটের হিসেবে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

মাঠের চিত্র বলছে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু ইতোমধ্যে রিকশা প্রতীকের পক্ষে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে শেষ মুহূর্তে ধানের শীষের ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

সাধারণ ভোটারদের মতে, আগামী কয়েক দিনের প্রচারণার কৌশল ও সাংগঠনিক তৎপরতাই নির্ধারণ করে দেবে—শেষ হাসি কে হাসবেন।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222