জামালপুরের নান্দিনা বাজারে গুড় তৈরিতে চিনি এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর শিল্প-রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার করার অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসনের ব্যবসা-বাণিজ্য শাখার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো, সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারের মেসার্স তাওহীদ ট্রেডার্স ও মেসার্স ভাই ভাই আড়ত। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর থেকে নান্দিনা গো-হাটি বাজারের আটটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও কাঁচামাল বিক্রয়কারী দোকানে নিবিড় তদারকি চালানো হয়। এ সময় কর্মকর্তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কিট ব্যবহার করে খাদ্যে কোনো প্রকার ভেজাল বা ক্ষতিকারক উপাদান আছে কি না তা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় মেসার্স তাওহীদ ট্রেডার্স ও মেসার্স ভাই ভাই আড়তে চিনি মিশ্রিত নিম্নমানের গুড়, পচা নালি, গুড় বীজ এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহারের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ ও ইমন হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত আদালত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান শেষে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আবু নাসের মোহাম্মদ শফিউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, হাইড্রোজ মূলত শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক দ্রব্য, যা মানবখাদ্যে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অসাধু ব্যবসায়ীরা গুড়কে অধিকতর সাদা ও উজ্জ্বল করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এই বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, হাইড্রোজ মিশ্রিত খাদ্য নিয়মিত গ্রহণে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট ও পাকস্থলীর সমস্যা হতে পারে। এমনকি এটি মানবদেহের লিভার ও কিডনির স্থায়ী ও মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। জনস্বার্থে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
টিএইচএ/
