(নরসিংদী প্রতিনিধি)
নরসিংদীর সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন ও রায়পুরা উপজেলার হাইমারা ইউনিয়নের মনিপুরা এলাকার মধ্যে মেঘনা নদীর শাখায় নির্মিত কাঠের সেতুটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব করেছে। তবে এটিকে সাময়িক সমাধান উল্লেখ করে দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্পেন প্রবাসী দানবীর মো. আল আমিনসহ এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এই কাঠের সেতু দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছেন। সেতুটি আলোকবালী ও মনিপুরা এলাকার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এসেছে স্বস্তি।
মনিপুরা এলাকায় গড়ে ওঠা বৃহৎ বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য ওঠানামা করে এবং নিয়মিত গরুর হাট বসে। এ কারণে সেতুটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এ অঞ্চলে কোনো সেতু বা সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় রোগী পারাপার, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে নদী পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ফলে শিক্ষার হারও কম ছিল।
বর্তমানে কাঠের সেতু চালু হওয়ায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর মতে, এটি টেকসই সমাধান নয়। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদরের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন ও রায়পুরার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। এ সেতু নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা জানান, প্রকল্পটির ডিজাইন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে দুই উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার মানে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।
এনআর/
