চামড়া সিন্ডিকেট কওমি মাদরাসার অর্থনীতি ধ্বংসের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র: গ্রীন পার্টি

by Abid

নিজস্ব প্রতিবেদন: কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট এবং কওমি মাদরাসার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রুখতে জরুরি গোলটেবিল বৈঠক করেছে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, চামড়া শিল্পের বর্তমান বিপর্যয় কোনো স্বাভাবিক বাজার প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটি ‘আর্থিক সন্ত্রাস’, যা বর্তমান সময়েও সক্রিয় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসানের লেখা ‘কোরবানির চামড়ার মূল্য: প্রেক্ষিত কওমি মাদরাসা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ (কীনোট) পাঠ করেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ হাসান আম্মার। কীনোটে উল্লেখ করা হয়, গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণে যে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল, তা মূলত সাধারণ মানুষ বা মাদরাসাকে কোনো সুবিধা দেয়নি। বরং এটি মধ্যস্বত্বভোগী ও পুরনো সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করেছে। এই সংকট উত্তরণে বৈঠকে ‘রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মনোপলি মডেল’ পেশ করা হয়, যেখানে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন এবং ধান-চালের মতো চামড়ার জন্যও ‘ন্যূনতম সহায়তা মূল্য গ্যারান্টি স্কিম’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে মাদরাসার অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি লেদার ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে চামড়ার বাজারে যে ধস নামানো হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল কওমি মাদরাসা। ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম যেখানে ৮০-৯০ টাকা ছিল, আজ তা কৃত্রিমভাবে ৫০-৬০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কওমি মাদরাসাগুলোর আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ কোরবানির চামড়া থেকে আসে জেনেও আওয়ামী সিন্ডিকেট এই খাতকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে দরপতন ঘটিয়েছে। ব্র্যাকের জরিপ উদ্ধৃত করে তিনি জানান, মাদরাসাগুলোকে অর্থাভাবে মুখ থুবড়ে ফেলাই ছিল এই সিন্ডিকেটের মূল উদ্দেশ্য।

বৈঠকে মনযূরুল হক বলেন, বর্তমানে চামড়া শিল্প মুষ্টিমেয় ট্যানারি মালিকদের হাতে জিম্মি। তাদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি বছর কওমি মাদরাসাগুলো অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা কম আয় করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলেও বাংলাদেশে গত এক দশকের নাটকীয় দরপতনকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেন উত্তরার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইশরাত হোসেন। গোলটেবিল বৈঠক থেকে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি সরকারের কাছে দাবি জানায়, লবণের মতো লোক দেখানো প্রকল্প বন্ধ করে চামড়া শিল্পকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় আনতে হবে। অন্যথায় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222