ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম আজ ২৯ এপ্রিল, বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, চট্টগ্রামে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা একটি অভিশাপে পরিনত হয়েছে। একটু ভারি বৃদ্ধি হলেই বন্দর নগরী চট্টগ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। শহরের রাস্তাগুলো নদীতে রুপান্তরিত হয়। নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা পড়েন সীমাহীন দুর্ভোগে।
প্রতিবার তুমুল সমালোচনা হয়, আর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তারা একজন অন্যজনের ওপরে দায় চাপান। বহুবছর ধরে আমরা এই প্রবনতা দেখে আসছি। এর একটা সুরাহা হতে হবে। সেজন্য সিটি কর্পোরেশন, মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করা উচিৎ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি বলেন, আজকে মেয়র জানাব শাহাদৎ হোসেন “ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।” আমরা তার থেকে ক্ষমা প্রার্থনা চাই না, কাজ চাই। তিনি মেয়র হিসেবে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর দায়িত্ব নিয়েছেন। তার দায়িত্বের সময়কাল দেড়বছর হতে চললো। তিনি ২৫ এর বর্ষাকালেও দায়িত্বে ছিলেন। তখনও জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে নগরী। বিগত একবছরে তিনি কি কাজ করেছেন তা নগরবাসী জানতে চায়। আজকে রাজনৈতিক ক্ষমা প্রার্থনাতেই জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হচ্ছে না।
মেয়র জনাব শাহাদাৎ হোসেন জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জনগণের সচেতনতার প্রয়োজন আছে, কিন্তু এতে তার ব্যর্থতা আড়াল হয় না। জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় বড় প্রকল্প নেয়া হলেও সেগুলোর যথার্থতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। মেয়র হিসেবে সেগুলোর তদারকি করা ও সমন্বয় করা তার দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে পালন না করে জনগণকে দায় দেয়া শোভা পায় না।
আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এখনো শুরু হয় নাই। এখনো কিছু দিন সময় আছে। আমরা বলবো, যা করার তাই করেন। কিন্তু আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখতে চাই না।
হাআমা/
